Showing posts with label অঞ্জন দত্ত. Show all posts
Showing posts with label অঞ্জন দত্ত. Show all posts

Sunday, April 8, 2012

চোখের জল কিংবা পানি, সেতো নোনতাই থেকে যায়ঃ অঞ্জন দত্ত


বাংলাদেশে অনুষ্ঠান করতে যাই।ফিরে এসে সেই ছোট্ট প্রাণবন্ত দেশটাকে নিয়ে কিছু গান লিখি, আমার বাংলাদেশের শ্রোতাদের জন্য।তার মধ্যে এই গানটা মনে হয় আমার এই বাংলার কিছু মানুষের হয়তো খারাপ লাগবেনা।





বেইলী রোডের ধারে, আমি দেখেছি তোমায়
রাতের অন্ধকারে, আমি দেখেছি তোমায়
আমার বউ বাজারে,আমি দেখেছি তোমায়
দু'দিকের কাঁটা তারে আমি দেখেছি তোমায়


এখানে তুমি হাসি মল্লিক,ওখানে হাসিনা
এখানে তোমার দাম পঞ্চাশ, ওখানে কত জানিনা
নিয়ন আলোয় ঝলসে যাওয়া দুটো শহরের রাত
বেঁচে থাকার জন্য কেনা বেচার দুটো হাত
ডলারের হার কমলে, তাদের দর বদলায়
চোখের জল কিংবা পানি, সেতো নোনতাই থেকে যায়।


কারো খদ্দের টয়োটা চড়ে, কারোর মারুতি জেন
কারো চোখে দিশি নেশা, কারোর ফরেন
তবু চাহিদা সেতো একটাই, একটুখানি সুখ
তাই একই ভাবে লাঞ্ছিত হয় দুটি দেশের মুখ
তবু আবার সকাল আসে, ওরা স্নান করে যায়
দুজনেই মনে মনে, বাংলায় গান গায়।
ডলারের হার কমলে, তাদের দর বদলায়
চোখের জল কিংবা পানি, সেতো নোনতাই থেকে যায়।


এখানে ঘোলাটে গঙ্গার জল, ওখানে ইছামতি
নোংরা নষ্ট, হাজার কষ্ট তবু বয়ে চলে ঠিকই
চেপে রাখা ক্ষত,যত যত হাহাকার
বিশ্বের কাছে দেনার দায়ে লাঞ্ছিত বারবার
তবু আবার রঙ চাপিয়ে,দাঁড়াতেই হয়
বেঁচে থাকার জন্য, বিশ্বের রাস্তায়।
ডলারের হার কমলে, দেশের দর বদলায়
চোখের জল কিংবা পানি, সেতো নোনতাই থেকে যায়

কাঞ্চনজঙ্ঘা - অঞ্জন দত্ত

একটু ভালোকরে বাঁচবো বলে আর
একটু বেশি রোজগার
ছাড়লাম ঘর আমি
ছাড়লাম ভালোবাসা আমার নীলচে পাহাড় ।

পারলোনা কিছুতেই তোমার কলকাতা
আমাকে ভুলিয়ে দিতে
পাহাড়ী রাস্তার ধারের বস্তির
আমার কাঞ্চনকে.....
কাঞ্চন জানা, কাঞ্চন ঘর
কাঞ্চনজঙ্ঘা , কাঞ্চন মন ।
তো পাইলে সোনা ........
হনু হইয়্যো... ম উল্লা
ভাংচু কাঞ্চন ।

সোনার খোঁজে কেউ
কত দূর দেশে যায়
আমি কলকাতায়,
সোনার স্বপ্ন খুঁজে ফিরি একা একা
তোমাদের ধর্মতলায়।
রাত্তির নেমে এলে তিন'শ বছরের
সিমেন্টের জঙ্গলে
ফিরে চলে যাই সেই
পাহাড়ী বস্তির কাঞ্চনের কোলে ।
জং ধরা রং চটা পার্কের বেঞ্চিটা
আমার বিছানা ।
কখন যে তুলে নিয়ে গিয়েছিল আমাকে
তোমাদের থানা ।
তিন মাস জেল খেটে
এখন আমি সেই থানার দারোয়ান
পারবোনা ফিরে পেতে হয়তো কোনদিন
আমার সেই কাঞ্চন.......
কাঞ্চন জানা, কাঞ্চন ঘর
কাঞ্চনজঙ্ঘা,কাঞ্চন মন ।
তো পাইলে সোনা ........
হনু হইয়্যো... ম উল্লা
ভাংচু কাঞ্চন ।

বেড়াতে যদি তুমি যাও কোনদিন
আমার ক্যালিম্পং
মনেরেখ শংকর হোটেলের ভাড়া
ট্যুরিস্ট লজের চেয়ে কম
রাত্তির নেমে এলে আসবে
তোমার ঘরে চুল্লিটা জ্বালিয়ে দিতে
আর কেউ নয় সে যে আমার ফেলে আসা
নীলচে পাহাড়ের মেয়ে,
বলোনা তাকে আমি দারোয়ান
শুধু বলো করছি ভালোই রোজগার
ঐ বস্তির ড্রাইভার চীগমীর সাথে
যেন বেঁধে না ফেলে সংসার
আর কিছু টাকা আমি জমাতে পারলে যাব যাব ফিরে
পাহাড়ী রাস্তার ধারের বস্তির আমার নিজের ঘরে ।

আর যদি দেখ তার কপালে সিঁদুর
বলোনা কিছুই তাকে আর
শুধু এই সত্তর টাকা
তুমি যদি পার গুঁজে দিও হাতে তার ।
ট্রেনের টিকিটের ভাড়াটা সে দিয়েছিল
কানের মাঁকড়ি বেচে
ভালোবাসার সেই দাম তুমি দিয়ে দিও
আমার কাঞ্চনকে ......
কাঞ্চন জানা, কাঞ্চন ঘর
কাঞ্চনজঙ্ঘা, কাঞ্চন মন ।
তুমি যাকে বল সোনা
আমি তাকে বলি কাঞ্চন......
কাঞ্চন জানা, কাঞ্চন ঘর
কাঞ্চনজঙ্ঘা, কাঞ্চন মন ।
তো পাইলে সোনা ........
হনু হইয়্যো... ম উল্লা
ভাংচু কাঞ্চন ।

Saturday, April 7, 2012

বৃষ্টি - অঞ্জন দত্ত

আমি বৃষ্টি দেখেছি
বৃষ্টির ছবি এঁকেছি
আমি রোদে পুড়ে
ঘুরে ঘুরে অনেক কেঁদেছি

আমার আকাশ কুসুম স্বপ্ন দেখার
খেলা থামেনি
শুধু তুমি চলে যাবে
আমি স্বপ্নেও ভাবিনি
আমি বৃষ্টি দেখেছি

চারটে দেয়াল মানেই নয়তো ঘর
নিজের ঘরেও অনেক মানুষ পর
কখন কিসের টানে মানুষ
পায় যে খুঁজে বাঁচার মানে
ঝাপসা চোখে দেখা এই শহর

আমি অনেক ভেঙ্গেচুরেও
আবার শুরু করেছি
আবার পাওয়ার আশায়
ঘুরে মরেছি
আমি অনেক হেরে গিয়েও
হারটা স্বীকার করিনি
শুধু তোমায় হারাবো
আমি স্বপ্নেও ভাবিনি
আমি বৃষ্টি দেখেছি

হারিয়ে গেছে তরতাজা সময়
হারিয়ে যেতে করেনি আমার ভয়
কখন কিসের টানে মানুষ
পায় যে খুঁজে বাঁচার মানে
ঝাপসা চোখে দেখা এই শহর

আমি অনেক স্রোতে
বয়ে গিয়ে
অনেক ঠকেছি
আমি আগুন থেকে
ঠেকে শিখে
অনেক পুড়েছি
আমি অনেক কষ্টে
অনেক কিছুই
দিতে শিখেছি
শুধু তোমায় বিদায় দিতে হবে
স্বপ্নেও ভাবিনি

আমি বৃষ্টি দেখেছি
আমি বৃষ্টি দেখেছি
আমি বৃষ্টি দেখেছি

Saturday, March 24, 2012

আমি সবাই - অঞ্জন দত্ত (ছায়াছবি - রঞ্জনা আমি আর আসবো না)

সবাই কেন গাইতে গেলে প্রেমের গান'ই গায়?
ঘুরে ফিরে ভালোবাসার কথাটাই
আমি অন্য কিছু গাইবো বলে তোমার কাছে এসে
সবাই কেবল সবাই হয়ে যাই..

সবাই আগলে রাখে তাদের শরীরের ভেতরে ভালোবাসার সত্যি কথাটাই
আমি অন্য কিছু করবো বলে তোমার কাছে এসে
আমি সবাই কেবল সবাই হয়ে যাই
তাই সবার মতো লিখছি আমি একটি প্রেমের গান
সবার মতো তোমাকেই চাই
বলছে তোমায় একই কথা গীতিবিতান
আমি অন্য কিছু নই আমি সবাই..

আমার আকাশ আমি যতই হাজার অন্য রঙে আকি
আকাশ সে তো নীল থেকে যায়
আমার সাদা কালো শহর সে তো সাদা-কালো থাকে আমি যত রঙিন নিয়ন চাই।
কত হাজার হাজার শরীর আমায় রোজ ছুয়ে যাচ্ছে তাতে গন্ধ আমার নাকে মুখে গায়
নিয়ে চলছি আমি তাদের লজ্জা আমার দু'চোখে
আমায় নিয়ে চলছে যে সবাই
তাই সবার মতো উঠতে হবে আমাকেও কাধে
বয়ে যেতে হবে একই গঙ্গায়
আমি অন্য কারো হাতের ভেতর একমুঠো ছাঁই‍
আমি অন্য কারো নই আমি সবাই..

Thursday, September 29, 2011

শুনতে কি চাও তুমি - অঞ্জন দত্ত

শুনতে কি চাও তুমি সেই অদ্ভুত বে-সুরো সুর
ফিরে পেতে চাও কি সেই আনচান করা দুপুর
দেখতে কি চাও তুমি সেই খেলনাওয়ালাটা কে
তার খেলনা দোতারা সে বাজাচ্ছে কবে থেকে

স্কুলের টিফিনের পয়সা বাঁচিয়ে কেনা
সেই অদ্ভুত ফাটা বাঁশ আর মাটির সুর টানা টানা
দু'দিনের সম্পদ দু'টাকার বাজনার বিষ্ময়
তারপর কখন হঠাৎ সুখের মানে পাল্টে যায়

তারপর টিফিনের পয়সা দিয়ে সিগারেট
কলেজ কেটে সিনেমা বান্ধবীর সাথে কাটলেট
আসে দশটা পাঁচটা সেই একরুটের বাসটা তারপর
সবার মতই পড়তে হয় যে কাগজের টোপর

এখন মাসের শেষে মাঝে মধ্যে কান্না পায়
মিনিবাসে দাড়িয়ে অফিস যাবার সময়
এখন বুঝেছি সেই অদ্ভুত সুরের কি মানে
ফিরে তো যাওয়া যায় না যে আর সেখানে

যেতে হবে যে তোমাকে আমাকে চলে
লুকোনো টেক্কা সংসারের এক্কা দোক্কা ফেলে
প্রথমে যাবে ঘর-দোর দোকানপাট তারপর হৃদয়
কিছুই হলো না বাজানো গেল না সময়

ইদানিং সে সুরটা শুনতে যে খুব ইচ্ছে হয়
কিন্তু সেই খেলনাওয়ালা আর আসেনা পাড়ায়
হয়তো কোন অন্য অলি-গলি ঘুরে
অন্য কোন কাউকে টানছে সেই অদ্ভুত সুরে

Saturday, April 9, 2011

তুমি না থাকলে - অঞ্জন দত্ত

তুমি না থাকলে সকাল টা এতো মিষ্টি হতো না...

তুমি না থাকলে মেঘ করে যেত বৃষ্টি হতো না...

তুমি না থাকলে সকাল টা এতো মিষ্টি হতো না...
তুমি না থাকলে মেঘ করে যেত বৃষ্টি হতো না...

তুমি না থাকলে মন কষাকষি করে হাসাহাসি নাক ঘষাঘষি....রা পা পা পা রাম পা পা পা..

তুমি না থাকলে চাঁদ টার গায়ে পড়ে যেত মরচে...
তুমি না থাকলে কিপটে লোকটা হতো না খরছে....

তুমি না থাকলে স্বপ্নের রঙ হয়ে যেত খয়েরী
বন বন করে দুনিয়া টা এই পাড়তো না ঘুরতে....

তুমি না থাকলে রবীন্দ্রনাথ কালীর দোয়াত মাথায় ঠুকে হতো কুপোকাত...রা পা পা পা রাম পা পা পা..

তুমি না থাকলে সুমন কেলেঙ্কারী করতো কতো....
গিটার ফেলে দুহাতে মালাই নামতা শেখাতে হতো....

পাশের বাড়ির মেয়েটা পাশের পাড়ার ছেলেটার সাথে
তুমি না থাকলে এই ভাবে কি বাড়িটা ছেড়ে পালাতো...

তুমি না থাকলে তাজমহলটা বাননোই হতো না
লাঠা লাঠি এই কাটা কাটি থামানোই যেতো না....

তুমি না থাকলে মোনালিসা কবে হয়ে যেতে গম্ভীর...
তুমি না থাকলে তোমার চিঠি জমানোই হতো না...

তুমি না থাকলে রোমিও কবে হ্যোমিওপ্যাথির দোকান খুলে জমিয়ে দিত...রা পা পা পা রাম পা পা পা..