Sunday, August 28, 2011

স্বপ্নের দৈন্য - সায়ান

একটা কোন বিশ্বাসী মন ধরবে আমার হাত

ঘর সাজাবে, গান শোনাবে, ভোর করে দেবে রাত
কোলে আমার ঘুমন্ত এক সুস্থ শিশুর মুখ
বন্ধু, আমার ওইটুকুতে ভরবে না যে বুক

একটা ভাঙা কুটির, একটা বেলজিয়ামের আয়না
বর্ষা এলে খিঁচুড়ি, আর আলমারিতে গয়না
বারান্দাতে ঝুলবে খাঁচায় কথা বলা ময়না
বন্ধু, আমার এত অল্পস্বল্পে কিছু হয়না

একটা ভালো চাকরি, তার বলার মতন বেতন
বছর শেষে বোনাস, তারপরেই বিদেশ ভ্রমণ
একটা ভালো গাড়ির সংগে বারিধারায় বাড়ি
তাও যদি দাও, থামবে না তো আমার আহাজারি

হৃদয় যার দরিদ্র, তার অভাবটুকুই আপন
আমি সচ্ছল, তাই এঁকেছি দু'চোখে সচ্ছলতার স্বপন
ছোট্ট যাদের হৃদয়, তারা অল্প পেলেই খুশি
আমার হৃদয় সবার জন্যে সব চায় বেশী বেশী

আমার তো নেই দেবার অনেক, পারছিনা তো দিতে
পারবো না তো না দেবার এই লজ্জা মেনে নিতে
আমারও ঠিক তোমার মতোই জীবনজোড়া দৈন্য
কিন্তু আমার চাওয়ার বেলায় নেই কিছু কার্পণ্য


এক হারিয়ে যাওয়া বন্ধু - সায়ান

এক হারিয়ে যাওয়া বন্ধুর সাথে
সকাল বিকেল বেলা
কত পুরোনো নতুন পরিচিত গান
গাইতাম খুলে গলা

কত এলোমেলো পথ হেঁটেছি দু’জন
হাত ছিল না তো হাতে
ছিল যে যার জীবনে দু’টো মন ছিল
জড়াজড়ি একসাথে

কত ঝগড়া-বিবাদ সুখের স্মৃতিতে
ভরে আছে শৈশব
তোকে স্মৃতিতে স্মৃতিতে এখনো তো
ভালোবাসছি অসম্ভব

কেন বাড়লে বয়স
ছোট্টবেলার বন্ধু হারিয়ে যায়
কেন হারাচ্ছে সব বাড়াচ্ছে ভিড়
হারানোর তালিকায়

আজ কে যে কোথায় আছি
কোন খবর নেই তো কারো
অথচ তোর ঐ দুঃখগুলোতে
অংশ ছিল আমারও

এই চলতি জীবন ঘটনাবহুল
দু’ এক ইঞ্চি ফাঁকে
তুইতো পাবিনা আমায়
আর আমিও খুঁজিনা তোকে

কত সুখ পাওয়া হয়ে গেল, তোকে ভুলে গেছি কতবার
তবু শৈশব থেকে তোর গান যেন ভেসে আসে বারবার

আজ চলতে শিখে গেছি
তোকে নেই কিছু প্রয়োজন
তবু ভীষন অপ্রয়োজনে তোকেই
খুঁজছে আমার মন

তুই হয়তো ভালোই আছিস
আর আমিও মন্দ নেই
তবু অসময়ে এসে স্মৃতিগুলো বুকে
আঁকিবুকি কাটবেই

তুই কতদুরে চলে গেলি, তোকে হারিয়ে ফেলেছি আমি
এই দুঃখটা হয়ে থাক, এই দুঃখটা বড় দামী

সেই কোন কথা নেই মুখে
শুধু চুপচাপ বসে থাকা
ছিল যার যার ব্যথা তার তার বুকে
ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা

আমি ভাবিনি তখন ভুলেও এমন
দু’জন দু’দিকে যাবে
বুঝিনি আমার হৃদস্পন্দন
আমারই অচেনা হবে

এই বিভক্ত পৃথিবীতে বড় শক্ত বাঁধন ছিল
হলো অহংকারের জয়, সেই বন্ধন ছিঁড়ে গেলো

সেই অহংকারের খেলায় দু’জনে
জিতে গেছি একসাথে
প্রতি ইটের জবাব পাথরে দিয়েছি
বিজয়ের মালা হাতে

সেই বিজয়োল্লাস প্রতিধ্বনিত
মুর্ত আর্তনাদে
আজ বুকের ভিতর মিষ্টি একটা
শৈশব শুধু কাঁদে

আজ অবেলার অবসরে কেন লাগছে ভীষন একা
কত হাজার বছর তোর হাতটাকে হয়নি তো ছুঁয়ে দেখা

আমি কত কত বার আঁকি তোর ছবি
ভঙ্গুর কল্পনাতে
আজও জ্বলে যাই আজও পুড়ে যাই
তোর দু’চোখের অবসাদে

দ্যাখ্‌ নীল নীল নীল আকাশের মত
অনন্ত হাহাকার
আজ বুকের ভেতর ভাঙছে ভাঙছে
ভেঙে সব চুরমার

কোন শত্রুরও যেন প্রাণের বন্ধু
এমন দূরে না যায়
শোন বন্ধু কখনো কোন বন্ধুকে
বলোনা যেন বিদায়

কথা: সায়ান